মামুনুল হক নামাজ-রোজা-কোরআন পড়ার সুযোগ চেয়েছেন

২০২০ সালে মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া একটি হামলা ও নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে নামাজ – রোজা – কোরআন পড়ার সুযোগ সুবিধা চেয়েছেন।
মামুনুল হক নামাজ-রোজা-কোরআন পড়ার সুযোগ চেয়েছেন
মামুনুল হক নামাজ-রোজা-কোরআন পড়ার সুযোগ চেয়েছেন

আজ সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামুনুল হকের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে।

আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে মামুনুল হককে বিচারক বলেন, ‘আপনার কী কিছু বলার আছে?’

এ প্রশ্নের জবাবে বিচারককে উদ্দেশ্য করে মামুনুল হক বলেন, ‘রমজান মাস পবিত্র মাস। আমি প্রতি রমজান মাসে ছয় বার কোরআন শরীফ খতম দেই।
এই রমজান মাসে আমি যেন রোজা, নামাজ ও কোরআন পড়তে পারি তার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আবেদন করছি।’

পরে আদালত মামুনুল হকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু, সিএমএম আদালত এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

শুনানিতে তারা বলেন, এই মামলা পুলিশ করেনি। প্রায় এক বছর আগে ২০২০ সালে এই মামলা হলেও মামুনুল হক আদালতে হাজির হননি।

এক্ষেত্রে প্রচলিত আইন আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেননি মামুনুল হক।

এরপর মামুনুল নিজে কথা বলেন এবং তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিন শুনানি করেন।  

মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নুর আবেদীন মেজবাহ বলেন, মামুনুল এই মামলার ঘটনাস্থলে ছিল না।
মামুনুল হককে রাজনৈতিক কারণে এক বছর পর এই মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এই রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এছাড়া, মামুনুল হকের আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদিন মেজবাহ রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে শুনানি শেষে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে মামুনুলকে আদালতে আনা হয়।

এদিকে মামুনুল হককে আনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুনানি শেষে তাকে ফের ডিবি অফিসে নেওয়া হয়।

রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, ২০২০ সালে মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া একটি হামলা ও নাশকতার মামলায় মামুনুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনে হেফাজতে ইসলামের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / Bay of bengal news