করোনা প্রতিরক্ষায় মুখে খাওয়ার ওষুধ বাজারে আনছে ফাইজার

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এবার মুখে খাওয়ার উপযোগী ওষুধও আনছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজার ।
করোনা প্রতিরক্ষায় মুখে খাওয়ার ওষুধ বাজারে আনছে ফাইজার
করোনা প্রতিরক্ষায় মুখে খাওয়ার ওষুধ বাজারে আনছে ফাইজার

চলতি বছরের শেষের দিকে ওই ওষুধ বাজারে আসতে পারে বলে গত মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি কে জানিয়েছেন ফাইজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলবার্ট বোরলা।

মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির কাজ করছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই টিকার প্রয়োগ চলছে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইংল্যান্ড গত বছরের ডিসেম্বরে ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনার টিকার অনুমোদন দেয়। পরে অবশ্য অন্যান্য দেশও জরুরি ব্যবহারের জন্য এই টিকার অনুমোদন দেয়। ফাইজার-বায়োএনটেকের দাবি, তাদের উদ্ভাবিত করোনার টিকা শতকরা অন্তত ৯৫ ভাগ কার্যকর।

সম্প্রতি ফাইজার করোনার চিকিৎসায় ‘অ্যান্টি-ভাইরাল’ ওষুধ নিয়েও কাজ করছে। এ সম্পর্কে ফাইজারের সিইও আলবার্ট বোরলা বলেন, ‘আমরা আসলে দুটি ওষুধ (অ্যান্টি-ভাইরাল) নিয়ে কাজ করছি। একটি ইনজেশনের মাধ্যমে দেওয়ার ওষুধ। অন্যটি মুখে গ্রহণের।”

দুটি অ্যান্টি-ভাইরালের মধ্যে মুখে খাওয়ার ওষুধটির প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলবার্ট বোরলা। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মুখে খাওয়ার ওষুধের একাধিক সুবিধা রয়েছে।
তার মধ্যে একটি সুবিধা হলো—এই ওষুধ গ্রহণের জন্য রোগীকে হাসপাতালেই যেতে হবে না। ঘরে বসেই ওষুধটি নেওয়া যাবে।

আলবার্ট বোরলা জানান,সবকিছু ঠিকমতো এগোলে তারা এখন যে গতিতে কাজ করছেন, সেই একই গতিতে তাঁরা ওষুধটি তৈরির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করবেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি তাঁদের মতো গতিশীলভাবে কাজ করে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ওষুধটি তৈরি হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

করোনার চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত একটি ‘অ্যান্টি-ভাইরাল’ ওষুধ অনুমোদন পেয়েছে। সেটির নাম রেমডিসিভির। এটি একটি ইনজেকশন। ওষুধটির প্রস্তুতকারক মার্কিন কোম্পানি গিলিয়েড সায়েন্সেস।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গিলিয়েড সায়েন্সেসের ভাইরাসপ্রতিরোধী ওষুধ রেমডিসিভিরের পূর্ণ অনুমোদন দেয়। তার আগে গত বছরের মার্চে ওষুধটি জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল এফডিএ।

আলবার্ট বোরলা বলেন, তারা মুখে গ্রহণের যে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধটি নিয়ে কাজ করছেন, সেটি করোনার নানা ধরন প্রতিরোধে আরও কার্যকর হবে বলে আশাবাদী। এই বিষয়টিকে একটি সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন তিনি।

আলবার্ট বোরলা বলেন, তারা এখন তাদের গবেষণার কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। গ্রীষ্ম নাগাদ এ বিষয়ে তাদের কাছে আরো তথ্য আসবে বলে জানান তিনি।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / Bay of bengal news