মাগুরা থেকে ঢাকামহাসড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন

মোঃ রাব্বি হেসেন সৌমিকঃ মাগুরা কছুন্দি মাঝি পাড়া-ঢাকা মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলছে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন। মাঝে মধ্যেই একসঙ্গে বেশি গাড়ি চলে এলেই ধীরগতির কারণে খণ্ড খণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
মাগুরা থেকে ঢাকামহাসড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন

গেলো ২৩ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির উপর দিয়ে ভারি যানবাহন গেলেই কেঁপে উঠছে এবং সেতুর নিচ থেকে কংক্রিট খুলে পড়ছে। নিরাপত্তার জন্য এক পাশে বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।

সেতুটির মাঝে বড় বড় ফাটল, এমনকি পিলার গুলো ভেঙে রড বেঁকে গেছে। যে কারণে সেতুটি সরু হয়ে যাওয়ায় গাড়ির চাপ বৃদ্ধির কারণে হালকা যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়।

মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো.আশিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। পুরাতন এই সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় মাগুরা -ঢাকা মহাসড়কের কছুন্দি মাঝি পাড়া এবং উলিনগর সেতুতে বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। আর এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দুইটি দিয়ে হাজারো যানবাহন চলাচলে সড়ক পথে মৃত্যু ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে।

বিদ্যমান কালভার্টটির এবাটমেন্ট ওয়াল এবং উইংওয়াল ইটের গাঁথুনি হওয়ায় অনেক আগেই ধসে পড়েছে, স্লাব ভীম রেলিং বর্তমান ক্ষতিগ্রস্ত।

এই সেতুর প্রশস্ততা ৭.৩০ মিটার সহ উচ্চতা ৬ মিটার এবং কোনো ফুটপাত না থাকায় পাশাপাশি দুইটা যানবাহন গেলেই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।

এবং সেই সাথে উলিনগর মহাসড়কের উপর নির্মিত ৭.৩০ মিটার উচ্চতা ৫ ফুট ৫০ মিটার সেতুটিরও একই বেহাল দশা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কছুন্দি এবং উলিনগর সেতুটি অনেক দিনের পুরনো। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন সময়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রশস্ত করা হলেও এই সেতুতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

ফলে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চাপ নিতে হিমশিম খায় প্রতিদিন এই সেতুটি।

এছাড়ও এখানে ফুটপাত কিংবা ছোট যানবাহন চলার আলাদা কোনো জায়গা না থাকায় মাঝে মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

গত ২০ এপ্রিল মাগুরা পারনান্দুয়ালী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে জানা যায়, মাগুরা সদর কছুন্দি বাজার এর সামনে মহাসড়কের ওপর নির্মিত সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে একটা অংশ দেবে গেছে। এবং নিচের পিলার দুই পাসের রেলিং ভেঙে গেছে। এছাড়া রেলিং এর এক পাসে বাঁশ বেধে দেয়া হয়েছে যা মহাসড়কে যানবাহনের চলাচলের জন্য মহা-বিপদজনক।

বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন সহ লক্ষাধিক মানুষ এবং ২০টি গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ওই সেতু দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।  যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমনকি একটু সামনে বহু আলোচিত গড়াই নদীর উপর নির্মিত গড়াই ব্রীজ। “যা কিনা বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আদায়ের চাবিকাঠি” কিন্তু ব্রীজ নির্মাণের বিষয় কারো খেয়াল নেই!

বাস চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, লং ভিকেল, ট্রাক,পরিবহন, ড্রাম সহ নানান যানবাহন চলাচল করে যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে পড়ে হতাহতের আশঙ্কা করছি।

কছুন্দি, উলিনগর স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রায় রাতে শব্দ শুনে দৌঁড়ে এসে দেখি ভাঙা রেলিং দিয়ে গাড়ি নিচে পড়ে গেছে।

তারা আরো বলেন, এই তো কয়েক দিন আগে ট্রাক আর প্রাইভেট কারের দুর্ঘটনা ঘটেছিলো।

গত বছরের দুর্ঘটনার কারণে সেতুর মাঝের একটি পিলার ভেঙে যায় আর সেতু দেবে যায়। এতে ধসে না পড়লেও মাঝ বরাবর ভেঙে যায় সেতুটি।

মাগুরা / বে অব বেঙ্গল নিউজ / bay of bengal news