বেড়ানোর কথা বলে বান্দরবানের লামায় এনে জিম্মি | মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা | আটক ২

কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে বেড়ানোর কথা বলে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্র কিশোর হাফেজ মো. ওয়িউল্লাহ স্বাধীনের (১৭) অর্ধগলিত লাশ অপহরণের ২৫ দিন পর বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসী ইউনিয়ন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বেড়ানোর কথা বলে বান্দরবানের লামায় এনে জিম্মি | মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা | আটক ২
বেড়ানোর কথা বলে বান্দরবানের লামায় এনে জিম্মি | মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা | আটক ২
বুধবার (২১ এপ্রিল) ভোরে বান্দরবানের লামার রূপসী ইউনিয়নের রূপসী পাড়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা শিংঝিড়ি অভিযান চালিয়ে মাটির নীচ থেকে অপহৃত হাফেজ ওয়িউল্লাহর লাশটি উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত দু’জনকে পুলিশ আটক করেছে। তারা হলেন- ওয়িউল্লাহর দুঃসম্পর্কের চাচাতে ভাই মো. আরিফুল ইসলাম (১৭)। তার বাড়িও কুমিল্লার দেবিদার এলাকায়। অপর অপহরণকারী মো. ফয়েজ আহম্মদের (৩৮) বাড়ি কুমিল্লায়।

হত্যাকারীরা স্বীকারোক্তিতে বলেন, বেড়াতে যাওয়ার কথা বলেই কুমিল্লা থেকে মাদরাসা ছাত্রকে বান্দরবানের লামা উপজেলায় এনে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের টাকা না দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনা লুকাতে মাটি চাপা দেয়া হয় লাশ।

পুলিশ জানায়, ওয়িউল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায়। গত ২২ মার্চ তাকে অপহরণ করে বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসী ইউনিয়নে দুর্গম এলাকায় আনা হয়। এরপর তার স্বজনদের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

অপহরণের দু’দিন পর ওয়িউল্লাহর বড়ভাই কুমিল্লা থানায় একটি মামলা করেন। পরে বিভিন্ন সূত্র ধরে বাদী লামা থানায় মামলার কপি নিয়ে আসেন। এরপর লামা থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুই অপহরণকারীকে আটক করে।
নিহতের বড়ভাই রিয়াজ উদ্দিন সোহেল বলেন, গতমাসে ছোটভাই হাফেজ স্বাধীন তার ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলামের সাথে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কয়েকদিন যাবৎ ছোট ভাইয়ের কোনো খোঁজখবর না পেয়ে গত ২৪ মার্চ কুমিল্লার বুড়িচং থানায় নিখোঁজ জিডি করা হয়। অভিযোগের সূত্রধরে মোবাইল নাম্বার ট্রেকিং করে মঙ্গলবার পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামি ফয়েজ আহমদ ও আরিফুল ইসলামকে সন্দেহজনক লামার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের শ্বশুর বাড়ি থেকে আটক করে।

আসামি ফয়েজ আহমদ বেতঝিরি এলাকার ইউনুচ মোল্লার মেয়ের জামাই। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার বিষয়টি পুলিশকে স্বীকার করে এবং তাদের তথ্যমতে মাটির নীচ থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অপহরণের সঙ্গে জড়িত মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. ফয়েজ আহম্মদকে আটক করা হয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে রূপসী পাড়ার শিংঝিড়ি থেকে অপহৃতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা প্রাথমিকভাবে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

বে অব বেঙ্গল নিউজ / Bay of bengal news