বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম অফিশিয়াল ভিসা’র ৫০ বছর

আজ হতে পঞ্চাশ বছর আগে দিনটি ছিলো শনিবার ৩ এপ্রিল ১৯৭১। স্থান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের সদর দপ্তর চুয়াডাঙ্গা।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম অফিশিয়াল ভিসা'র ৫০ বছর

কলকাতা হতে আগত ৩২ বছর বয়সী ফরাসী ডকুমেন্টারি চিত্রসাংবাদিক ফিলিপ মার্ক এডুয়ার্ড আলফোঁসি এবং তার দুই সহযোগীর দলটি মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কলকাতা হতে কমান্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় সেদিন সকালে সীমান্ত অতিক্রম করে চুয়াডাঙ্গায় আসেন। কলকাতার প্রখ্যাত সাহিত্যিক-সাংবাদিক গৌর কিশোর ঘোষ তখন কলকাতায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে চুয়াডাঙ্গার সেতুবন্ধ হিসেবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর কাজটি সমন্বয় করছিলেন।

আর এই বিষয়টি সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সহ স্থানীয় প্রতিরোধ যুদ্ধের যাবতীয় তথ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় তাদেরকে নিয়মিত ব্রিফ করতেন সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের প্রধান উপদেষ্টা তথা স্থানীয় মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ডা. আসহাব উল হক।

উল্লেখ্য ইতোপূর্বে ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে নয়টায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার মোড়ে আহুত এক জনসভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষনা করেন।

এর মাত্র তিন দিন আগে অর্থাৎ ৩০ মার্চ চুয়াডাঙ্গায় কমান্ড সদরদপ্তর হতে পরিচালিত কুষ্টিয়ার যুদ্ধে মর্মান্তিক পরাজয়ের প্রতিশোধে দুটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ঐদিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সর্বপ্রথম চুয়াডাঙ্গার ওপর বিমান হামলা সহ ব্যপক বোমাবর্ষণ করে।

ফ্রান্সের প্রিমিয়ার ইনফরমেশন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক আলফোঁসি এবং তার ক্রু তখন ওই আক্রমণটি সরাসরি চিত্রায়িত করেন যা পরবর্তীতে ফরাসী টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়ে সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দেয়।

তবে আলফোঁসির চুয়াডাঙ্গায় আগমনের সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জড়িত যা বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক বিশেষ। আর তা হলো যুদ্ধরত বাংলাদেশের প্রথম অফিশিয়াল ভিসা যা আলফোঁসির পাসপোর্টে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম অফিশিয়াল ভিসা'র ৫০ বছর

ওই অন-অ্যারাইভাল ভিসাটি প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন প্রধান বেসামরিক প্রশাসক তথা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের প্রধান উপদেষ্টা ডা. আসহাব উল হক এবং তার সহ-স্বাক্ষরদাতা ছিলেন কমান্ডের সেনাধ্যক্ষ তৎকালীন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী। সেখানে কমান্ডের সীল সহ Entry Bangladesh 3/4/71 লিখে স্বাক্ষর করেন ডা. আসহাব উল হক এবং তার নীচে স্বাক্ষর করেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের ১৯ এপ্রিল ১৯৭১ সংখ্যায় The Battle of Kushtia শীর্ষক সংবাদভাষ্যে ডা. আসহাব উল হক এর পরিচিতি এভাবে তুলে ধরা হয় – “Bengali administrators were running the region under the local party leader, Dr. Ashabul Haq, 50, a forceful physician who packs a Webly & Scott revolver and a Spanish Guernica automatic.”

ঐ ভিসা ইস্যুর ৪৩ বছর পর ২০১৪ সালে আলফোঁসি বাংলাদেশের প্রথম অফিশিয়াল ভিসাযুক্ত তার পাসপোর্টটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে দান করেন এখন যা ইতিহাসের অংশ।