স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি-স্বামী এসআই । ছবি ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি-স্বামী এসআই । ছবি ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

‘পুলিশিং পেশার ব্যাপারে যাদের একটু ধারণা আছে তারা বলতে পারবেন অবস্থানগত দিক থেকে আমার সহধর্মিণীর অবস্থান আমার থেকে কতটা উপরে। না, আমাদের বিয়ের পর আমাদের কারও চাকরি হয়নি। আমার আর আমার সহধর্মিণীর অবস্থানের এই আকাশ পাতাল পার্থক্যের তোয়াক্কা না করে এই দেবীতুল্য মানুষটা আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন।’

স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি-স্বামী এসআই । ছবি ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি-স্বামী এসআই । ছবি ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

কথাগুলো নিজ ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন বাংলাদেশ পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল ঘোষ জিতু। বর্তমানে জিতু কুমিল্লা জেলার মীরপুর হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত আছেন।

উজ্জ্বল ঘোষ জিতু ও উর্মী দেব ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উর্মী দেব হলেন আখাউড়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও উজ্জ্বল ঘোষ জিতু হলেন কুমিল্লা জেলার মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসয়আই)। সম্প্রতি এই পুলিশ দম্পতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের প্রশংসায় অনেকেই পঞ্চমুখ। সবাই তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উজ্জ্বল ঘোষ জিতু ও তার স্ত্রী উর্মী দেবের একটি কাপেল ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করেন।

ওই ফেইসবুক পোস্টে পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই)জিতু লিখেন, ‘পুলিশিং পেশার ব্যাপারে যাদের একটু ধারণা আছে তারা বলতে পারবেন অবস্থানগত দিক থেকে আমার সহধর্মিণীর অবস্থান আমার থেকে কতটা উপরে। না, আমাদের বিয়ের পর আমাদের কারও চাকরি হয়নি। আমার আর আমার সহধর্মিণীর অবস্থানের এই আকাশ পাতাল পার্থক্যের তোয়াক্কা না করে এই দেবীতুল্য মানুষটা আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন।’

‘যখন অহরহ পোস্ট দেখি মেয়েরা লোভী হয়, মেয়েরা বিসিএস স্বামী খুঁজে পেলে সব ছাড়তে পারে, মেয়েরা টাকা আর অবস্থান ছাড়া আর কিছু বোঝে না আমার তখন খুব হাসি পায় মায়ের জাত নিয়ে কি আমাদের চিন্তাধারা এটা ভেবে। একজন বিসিএস কর্মকর্তা যিনি কিনা আমার মতো একজন সামান্য মানুষকে এতটা আপন করে নিয়েছেন।“

এক সূত্র হতে জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) জিতু ও তার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উর্মী দেব দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর। নিজেদের পছন্দে বিয়ে হলেও, তাদের বিয়ে হয়েছে পারিবারিকভাবে।

এ বিষয়ে উজ্জ্বল ঘোষ জিতু জানান, জিতুর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে। তার পিতা ছিলেন পরিবহন ব্যবসায়ী। পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জিতুই বড় ছেলে। বাংলাদেশ পুলিশের উপ পরিদর্শক পদে যোগদান করতে তিনি ট্রেনিং যোগদান করেন ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারিতে। পুলিশের ট্রেনিং শেষ করেন জিতু ২০১৯ সালে। এর আগে থেকেই পরিচয় ছিল এএসপি উর্মী দেবের সাথে। এদিকে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পুলিশের এসআই পদে জিতুর পুলিশের চাকরি নিশ্চিত হয়। এরই মাঝে দু’জনের হঠাৎ হঠাৎ আলাপ আলোচনা হতো। একপর্যায়ে একে অপরকে পছন্দ করেন বলে জানান। বিষয়টি তারা নিজ নিজ পরিবারকে জানালে পরিবারের সদস্যরা আলাপের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়।

পোস্টের ব্যাপারে জিতু বলেন, সে অন্যান্য পোস্টের মতো ফেসবুকে পোস্টটি দিয়েছিল। এভাবে পোস্টটি ভাইরাল হবে তিনি বুঝতে পারেননি।

জিতু বলেন, “বিষয়টি মানুষ পজিটিভলি নিয়েছে। আমরা ব্যক্তিগত জীবনে অনেক সুখী। আমার স্ত্রীও খুব ভালো মানুষ। তার সততার কোনো কমতি নেই। আমার মতো একজন নগন্য মানুষকে বিয়ে করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি আসলেই কতটা নির্লোভ ও নিরহংকার।“

এদিকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উর্মী দেব গণমাধ্যমকে বলেন, তার বাবার বাড়ি চট্রগামে। বাবা পেশায় একজন আইনজীবী, তার পরিবারে এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে উর্মী বড়। বিসিএসের পর তার এএসপি পদে চাকরি জীবনের প্রথম পোস্টিং হয় আখাউড়া সার্কেলেই। ছবিটি তার স্বামী তার অফিসে এসে তুলেছিল। ছবির বিষয়ে তার আত্মীয় স্বজন ও সহকর্মীরা ফোন করে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার স্বামীর সাথে তার চাকরিতে যোগদান করার পর পরিচয় হয়। তাদের কর্মজীবন আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদাভাবে চালাতে হয়৷ যেন একটির কারণে আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একই পেশায় দুইজন থাকলে ভালো হয়, একজন আরেকজনেরটা সহজে বুঝতে পারেন বলে উর্মী মনে করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে এএসপি উর্মী দেব বলেন, আমরা যখন বিয়ে করি তখন দুইজনই চাকরিজীবী। আমরা বুঝে শুনেই বিয়েতে সম্মত হয়েছি। তাই আমাদের কোনো সমস্যা হবে না বলে প্রত্যাশা করছি। তারপরও প্রতিটি দম্পতির ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা হতে পারে। তখন আমরা দুইজন আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।

তিনি আরো বলেন, কোনো একটি সম্পর্ক যখন পরিণতি পায়, তাহলে অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। আমাদের জীবন একটি, সব কিছু হিসাব-নিকাশ করে করা যায় না। বৃহৎ স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র বিষয়গুলো পরিহার করতে হয়। শিক্ষিত মানুষ হয়ে দৃষ্টিভঙ্গি যদি না পাল্টাই, তাহলে কে পাল্টাবে? সবার আগে নিজের মনমানসিকতা বদল করতে হবে।

bay of bengal newsবে অব বেঙ্গল নিউজ

বে অব বেঙ্গল নিউজ - Bay of Bengal News

বে অব বেঙ্গল নিউজ