অস্ত্র জমা দিয়ে জলদস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন ৩৪ জলদস্যু

অস্ত্র জমা দিয়ে জলদস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন ৩৪ জলদস্যু
অস্ত্র জমা দিয়ে জলদস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন ৩৪ জলদস্যু

অস্ত্র জমা দিয়ে জলদস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন ৩৪ জলদস্যু।

আজ বৃহস্পতিবার ১২ নভেম্বর দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের উপস্থিতিতে তারা আত্মসমর্পণ করছেন।  

বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে র‌্যাব-৭ আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান।  

এইদিকে র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, সাগরের ত্রাস বাইশ্যা ডাকাত বাহিনীর ৩ জন, খলিল বাহিনীর ২ জন, রমিজ বাহিনীর ১ জন, বাদশা বাহিনীর ৩ জন, জিয়া বাহিনীর ২ জন, কালাবদা বাহিনীর ৪ জন, ফুতুক বাহিনীর ৩ জন, বাদল বাহিনীর ১ জন, দিদার বাহিনীর ১ জন, কাদের বাহিনীর ১ জন, নাছির বাহিনীর ৩ জন এবং অন্যান্য আরও ১০ জন সহ মোট ৩৪ দস্যু ৯০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র, ২ হাজার ৫৬ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন।

আত্মসমর্পণের পর জলদস্যুদের পক্ষ থেকে বাইশ্যা ডাকাত বলেন, আমরাও ভালো মানুষের সন্তান ছিলাম, ভালো পথে ভালো জীবন-যাপন করতাম। তবে একসময় ভুল বুঝে, খারাপ মানুষের ফাঁদে পড়ে অন্ধকার পথে পা বাড়াই।

এরপর থেকে মানুষ আমাদের ঘৃণা করে, আমার পরিবার-সন্তানদের ঘৃণা করে। আমরা এমন এক জীবন পার করেছি, কোথাও প্রশাসনের ভয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতাম না। এরপর একসময় নিজের ভুল বুঝতে পেরে ভালো পথে আসার চেষ্টা করি।

সুযোগ পেয়ে এখন আমরা অনেকে আত্মসমর্পণ করেছি। অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসতে চাই। আমরা র‌্যাবের পক্ষ থেকে ভালো আচরণ পেয়েছি। এজন্য র‌্যাবকে ধন্যবাদ জানাই।

ভবিষ্যতে ভালোভাবে চলাফেরার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেননি তারা এ সুযোগ পাবেন না। তোমরাও এ সুযোগ কাজে লাগাও, আত্মসমর্পণ করো।

অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদেরও পরিবার আছে। তাই আমাদেরকে সহায়তা করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই। আমি সবার পক্ষ থেকে আমাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইছি।

বাঁশখালী, মহেষখালী, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া এলাকার এসব জলদস্যুর আত্মসমর্পণের খবরে জেলে পল্লীগুলোতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এসি/বে অব বেঙ্গল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার।