ধর্ষণ মামলায় চারজন শিশুকে জেলে পাঠানো নিয়ে হাইকোর্টের তীব্র ক্ষোভ – ক্ষমা চেয়েছেন জেলে পাঠানো বিচারক

যে বিচারকের শুনানির এখতিয়ার-ই নেই সেই বিচারক আসামি পাঠিয়েছেন কারাগারে। এমনকি আদেশ দেওয়ার সময় শিশু আসামিদেরও দেখেননি। ধর্ষণ মামলায় চার শিশুকে কারাগারে পাঠানো সেই বিচারক পার পেলেন হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে। আর পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন আদালত। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় চারজন শিশুকে জেলে পাঠানো নিয়ে হাইকোর্টের তীব্র ক্ষোভ - ক্ষমা চেয়েছেন জেলে পাঠানো বিচারক
চিত্রঃ ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত চার শিশু।

বয়সটা খেলার সাথীর সাথে সময় কাটানোর, অথচ ধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে চার শিশু হাইকোর্টে। বরিশাল থেকে সারারাত জার্নি করে ১১ অক্টোবর (রোববার) সকালে বাবা ও মায়ের হাত ধরে হাইকোর্টে আসে তারা। ক্লান্ত শরীরে বারবার অবাক হয়ে দেখছিল আদালতকে। অভিভাবকরা যখন শিশুদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন তখন চারজনই মেতেছিল খুনসুটিতে। 

এর আগে বিচারক কক্ষে একাধিক শিশুদের কথা শুনেন আদালত। পরে উন্মুক্ত আদালতে অভিভাবক, থানার ওসি ও বিচারকের জবানবন্দি নেয়া হয়। এসময় কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি। হাইকোর্ট বলেন তদন্ত ছাড়াই শিশুদের গ্রেফতার থেকে শুরু করে কারাগারে পাঠানো পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই আইনের লংঘন হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষমা চান বিচারক।  

এছাড়া সবশেষে হাইকোর্ট ৪ শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা স্থগিত করেন। সেই সাথে সব পক্ষকে পরবর্তী হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। 

এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মোঃ রাসেল চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী ২২/১১/২০২০ এ উনারা হয়তোবা সকলেই স্টেটমেন্ট গুলোকে কনসিডার করে রায় দিতে পারেন।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বিচারক ওসি দায় এড়াতে পারেন না। 

তিনি আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যারা মামলা রেকর্ড করেছেন তাদের এখানে গাফিলতি রয়েছে। বিচারক যদি এটা না দেখে থাকেন তাহলে উনারও এখানে গাফিলতি রয়েছে।

উল্লেখ্য এই আদেশে সন্তুষ্ট ৪ শিশুর অভিভাবক।  

একজন অভিভাবক গণমাধ্যমকে বলেন পুলিশ তার শিশুকে মুরগির বাচ্চার মত ধরে নিয়ে আসেন।  অভিভাবকরা আরো বলেন যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী তাদের শাস্তি চান তারা।

ওয়াইএইচ / বে অব বেঙ্গল নিউজ / Bay of bengal news