বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হেনস্তার স্বীকার চবি ছাত্রী ইরাঃ প্রতিবাদ

বুধবার ২৩-০৬-২১ আনুমানিক ৫ঃ০০ দিকে শহরের ষোলশহর থেকে অক্সিজেন ওয়াপদা যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী ইসরাত আফিয়া ইরা ৩ নং গাড়িতে ভাড়া দেয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধী না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার পরেও অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবে দ্বিগুণ ভাড়া দাবী করলে ভুক্তভোগী প্রতিবাদ জানালে গাড়ির হেল্পার ও ড্রাইভার অস্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে গায়ের উপর তেড়ে আসে।

বৃহস্পতিবার ২৪-০৬-২১ ইং তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর প্রতিকার ও প্রতিবাদ জানিয়ে শহরের ষোলশহর স্টেশনে জড়ো হয়ে বেশ কয়েকটি ৩ নং বাস অবরুদ্ধ করে।

বাস অবরুদ্ধ করার পর সন্ধ্যায় মালিক সমিতির মালিক সমিতির সুপার ভাইজার বাবু ও আশফাক… ড্রাইভার বাবু সহ উপস্থিত হয় বিষয়টি মিমাংসা করার জন্যে।


সুপারভাইজার আসফাক বলেন “আশা করি এরকম ঘটনা আর ঘটবে না”। ড্রাইভার বাবু ক্ষমা চেয়ে বলে এরকম পূনরাবৃত্তি হবে না।

উল্লেখ্য ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রতিকার চেয়ে গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিম্নোক্ত বক্তব্যে টি তুলে ধরেন-

“আজ বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হেনস্তার স্বীকার হলাম।

প্রতিদিন ষোলশহর থেকে ওয়াপদা গেইট (অক্সিজেন) যাই ১০টাকা দিয়ে, আজ ১৫ টাকা চাইলো। তার উপর বাসে অতিরিক্ত মানুষও নিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে। কিছু মানুষ দাঁড়িয়েও ছিলো।
আমি বললাম, প্রতিদিন তো ১০ টাকা ভাড়া দিয়েই আসি, আর এমন তো না যে আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষ তুলেছেন, ঠাসাঠাসি করে মানুষ তুলেছেন আবার ভাড়াও কেন বেশি নিচ্ছেন? ড্রাইভার বলে উঠলো ২নং গেইট থেকে অক্সিজেন ভাড়া ১৫ টাকা।
আমি বললাম, আমি তো ষোলশহর থেকে উঠেছি।
তখন ড্রাইভার আমাকে বললো, ” তুমি বেশি কথা না বলে ১৫ টাকা দিয়ে দাও, তোমাকে এত কথা কে বলতে বলছে?”
আমি তার সাথে শুরু থেকেই বিনয়ের সাথে কথা বলেছিলাম। ড্রাইভার তুমি করে বলাতে তাকে বললাম, আপনি অবশ্যই আমাকে তুমি করে বলতে পারেন না।
তারপর ড্রাইভার কনডাক্টরকে বললো, আমাকে চিনে রাখতে। আমাকে আর যেন গাড়িতে না তোলে।
আমি তখন বললাম, ফাইজলামির একটা লিমিট থাকা উচিত, এভাবে মানুষ থেকে স্বাস্হ্যবিধি না মেনে অতিরিক্ত টাকা তো নিতে পারেন না।
তখন ড্রাইভার আমাকে তুইতুকারি শুরু করে দিলো, আর বললো আমাকে নাকি থাপ্পড় মারবে।
আমি অবাক হয়ে গেলাম, কারণ এমন সিচুয়েশন আমি কখনও ফেইস করি নি। আর বাসের মধ্যে কোন একটা মানুষও কিছু বলছে না। সবাই এমন ভাবেই তাকিয়ে ছিলো যেন আমি এলিয়েন।
একটা মানুষও কি করে কিছু বললো না সেটা দেখে আমি হতবাক।
তখন যে আমি ৯৯৯ -এ ফোন দিবো সে সিচুয়েশন ছিলো না বা উপস্থিত বুদ্ধিটাও কাজ করেনি, যেহেতু এমন ঘটনা প্রথম ঘটেছে আমার সাথে। আসলে খুবই খারাপ লাগছে এভাবে বাসে অপমানিত হয়ে। আমি অবাক হয়ে গেছি এই ঘটনায়। প্রকাশ্যে সবার সামনে ড্রাইভার কিভাবে এমন আচরণ করে, থাপ্পর মারতে চায়?

তবে বাস থেকে নেমে নম্বরটা দেখেছিঃ
চট্টমেট্রো- জ
১১-১২০৬।
(বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নং রুটের বাস)”

বে অব বেঙ্গল নিউজ / BAY OF BENGAL NEWS