রাজনীতি

জানুন ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে ও বিস্তারিত

ছাত্র রাজনীতি শব্দটি আমাদের অতিপরিচিত একটি শব্দ, যেটা আমরা প্রায়ই চারপাশে শুনে থাকি। কিন্তু, ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে তা নিয়ে আমাদের অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই।  আজকের এই প্রতিবেদনে ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে সে সম্পর্কে আমরা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব। 

ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে তা বুঝতে গেলে জেনে রাখা উচিত যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু তাই নয়, উনিশ শতকের সময় থেকেই অবিভক্ত বাংলায় ছাত্র রাজনীতির অন্যতম ভূমিকা ছিল। 

ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে

যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত হয় 

সেটাকে আমরা সহজ ভাষায় ছাত্র রাজনীতি বলতে পারি। রাজনৈতিক পরিসরে ছাত্রদের গুরুত্ব কোন অংশে কম নয়। এখানে ছাত্ররা মূলত নিজেদের অধিকার নিয়ে নিজেরা সচেতন হতে শুরু করে, তাদের সুবিধা, অসুবিধা বা স্বাধীনতা নিয়ে আওয়াজ তুলতে সোচ্চার হয়। ছাত্রজীবন থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকলে পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে রাজনীতি তে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগে। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস

বাংলাদেশের রয়েছে ছাত্র রাজনীতির গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস। বাংলাদেশ যে স্বাধীন হয়েছে আজ তার পেছনে ছাত্রদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ছাত্র রাজনীতি এক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, সবক্ষেত্রে ছাত্রদের পদচারণ দেখি আমরা। ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে বুঝতে গেলে বাংলাদেশে এর কী ইতিহাস তা জেনে রাখা দরকার। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ১৯৬৬ এর ছয়দফা আন্দোলন এবং ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এমনকি হাল আমলের ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলন অথবা ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র ও ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অবস্থা:

বর্তমানে দাঁড়িয়ে ছাত্র রাজনীতির সেই অতীত গৌরবময় ঐতিহ্য আর নেই। সময় পাল্টেছে। সময়ের সাথে সমাজ ও মানুষের মানসিকতায় এসেছে বড় ধরণের রদবদল। ছাত্র রাজনীতির যে উদ্দেশ্য পূর্বে ছিল, তা যেন আজকের দিনে এসে অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ অধিকার এর চাইতে স্বার্থচিন্তা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে এক্ষেত্রে। অধিকাংশ ছাত্রই আজ রাজনৈতিক পথে হাঁটে না। ছাত্র রাজনীতি যেন ছাত্র ও শিক্ষকদের কাছে এক ত্রাসের নাম। ছাত্র রাজনীতি আজকাল নিরপেক্ষ নেই। বরং তারা একেকটা রাজনৈতিক দলের স্বার্থ সিদ্ধির যন্ত্র হিসেবে কাজ করে৷ চাঁদাবাজি, খুন, জখম, ধর্ষণ এর মত বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্ত ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ে৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতির বদলে বিস্তৃত এক ছাত্র রাজনীতি দেখা যায়, যা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। 

ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা

পূর্বের মত ছাত্র রাজনীতির প্রকৃতি না থাকলেও ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব আজও কিন্তু শেষ হয়ে যায় নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সুস্থ ছাত্র রাজনীতি সবার কাম্য কেননা এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই উপকার হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে সাধারণ ছাত্রদের স্বর হয়ে উঠতে পারে এই ছাত্র রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করে যারা তাদের বাদ দিয়ে সুস্থ একটি রাজনৈতিক পরিসর গড়ে তোলা উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে। 

ছাত্র রাজনীতি করার জন্য ছাত্র রাজনীতি কাকে বলে তা জানা উচিত। ছাত্র রাজনীতির ভালো ও খারাপ উভয় দিক মাথায় রেখে ছাত্র রাজনীতিতে অংশ নেওয়া উচিত।