সকল সংবাদ

আমাদেরকে কারেন্টের শক দেওয়া হয়েছে স্যারঃ ওসি প্রদীপ (ভিডিও সহ)…

টেকনাফ থানার সাবক ওসি প্রদীপ ও সাবেক এস আই লিয়াকতের ফোনালাপ। (ভিডিও চিত্র)

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও এস আই লিয়াকতের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তাদেরকে রিমান্ডে তাদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়াসহ বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ করতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (৩রা সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফেসবুকে ওসি প্রদীপ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকতের এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়, যেখানে তাদেরকে হাতে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় পুলিশের ভ্যানে বসে কথা বলতে দেখা যায়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাদেরকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, ঠিকমতো খেতে না দেওয়া সহ আরো নানা নির্যাতনের অভিযোগ করতে দেখা গিয়েছে। যেখানে তারা ফোনের ওপারের ব্যাক্তিকে স্যার বলে সম্বোধন করছিলেন।

টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। (সংগৃহীত)


ভিডিওতে ওসি প্রদীপ ফোনালাপে বলেন, ঐদিন আমাদেরকে ইচ্ছেমতো পিটাইছে এবং তারা যাতে দাগ না হয়, দাগ না হওয়ার জন্যে ডাক্তারের উপস্থিতিতে কারেন্টের শক দেওয়া শুরু করে স্যার। আমার শরীরের বিভিন্ন যায়গায় স্যার কারেন্টের দাগ আছে স্যার।

তিনি উক্ত আলাপে আরও বলেন, সারাটাদিন স্যার হ্যান্ডকাফ দিয়ে দাঁড় করাই রাখতো। আমাদেরকে পানি দেওয়া কোন খাবার দেওয়া মানে একদম অমানবিক জীবন-যাপন স্যার। স্যার আপনাকে এটা দয়া করে স্ট্রংলি দেখতে হবে স্যার।
ভিডিওতে ওসি প্রদীপকে ৩ জন র‍্যাব কর্মকর্তার নামে অভিযোগ করতে এবং লিয়াকতকে র‍্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তার নামে রিমান্ডে তাদেরকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনতে দেখা যায়।

লিয়াকত বলেন, তাদেরকে র‍্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডের একরাতে সারারাত বিবস্ত্র করে রাখা হয়েছে এবং পরের দিন সারাদিন হাতকড়া দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

লিয়াকত আরো বলেন, আপনাকে ছবি গুলো কেন দিয়েছি তারা আমাদেরকে ভিতরে নিয়ে ইলেক্ট্রিক শক দিসে, বুকের পশম উঠায় ফেলসে আর বেধড়ক পিটাইসে স্যার।

এছাড়া গত ২৪ আগস্ট (সোমবার) সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ বাকি আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে সেখানেও একবার এমন শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন ওসি প্রদীপ। আদালতে তিনি সেদিন শরীরের কিছু স্থানের কাপড় সরিয়ে দাগ দেখিয়েছিলেন এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। (সংগৃহীত)


উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ‘গাড়ি তল্লাশিকে’ কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনার পর বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

উক্ত মামলায় ৪দফায় মোট ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে এই ফোনালাপের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ওয়াই ইউ এইচ / বে অব বেঙ্গল নিউজ / স্টাফ রিপোর্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *