জাতীয়সকল সংবাদ

আবরার ফাহাদের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ, দ্রুত বিচারের দাবি আন্দোলনকারীদের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। মহামারীর কারনে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় নেয় কোন আয়োজন। তবে বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হোক এটাই চাওয়া আন্দোলনকারীদের। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের দাবিও তাদের।

চিত্রঃ নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। (সংগৃহীত)

গত বছর ৬ অক্টোবর ঘটে যাওয়া আবরার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে উপাচার্য বলছেন, একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

এছাড়া আর কোন সন্তানকে যেন লাশ হয়ে ফিরতে না হয় প্রত্যাশা নিহতের পরিবারের। সন্তানকে সফল প্রকৌশলী বানাতে চেয়েছিলেন বাবা-মা। ভাগ্যের পরিহাসে নিথর দেহে ফিরেছে তাদের সন্তান। কান্নাভেজা চোখে তাদের প্রতিক্ষা এখন সুষ্ঠু বিচারের।


আবরার ফাহাদের মা এবিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ওকে যারা এত নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে তাদেরকে যেন আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং তা যেন অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।


নিহত আবরারের ভাই বলেন, এখনো তিনজন আসামি বাইরে মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার দাবি তাদের যেন অতি শীঘ্রই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।


উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদ হত্যার পরে কেটে গিয়েছে একটি বছর। সন্দেহবসত শিবির তকমা লাগিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেখানে তাকে বেধড়ক পিটিয়েছিলেন শেরে বাংলা হলের সেই ২০১১ নম্বর কক্ষ এখন তালাবদ্ধ। তার ঠিক নিচে ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন আবরার।


সতীর্থের নির্মম মৃত্যুতে ফুঁসে উঠেছিল বুয়েট। টানা দেড়মাসের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্র রাজনীতি। শিক্ষার্থীদের সব দাবিও মেনে নেন কর্তৃপক্ষ। তবে বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট আন্দোলনকারীরা।


এব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, যত বেশি কালক্ষেপণ হবে ততবেশি ন্যায় বিচার পাওয়ার
আশাটা কমে যাচ্ছে।
এছাড়া তাদের প্রত্যেকের শাস্তি এবং কাউকে ছাড় না দেওয়ার বাদি জানান শিক্ষার্থীরা।


আবরার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ২২ আসামি কারাগারে থাকলেও এখনো ৩ জন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। শিক্ষার্থীদের মতো উপাচার্য ও চান পলাতকদের যেন গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়৷


বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার ফোনালাপে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরাতো চাই তাদের এরেস্ট করা হোক। তাদের ধরে নিয়ে তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা সবসময় চেয়ে আসছি সেটা।


প্রসঙ্গত আবরারের মৃত্যু স্তম্ভিত করে দিয়েছিল সমগ্র জাতিকে। এখন সবার অপেক্ষা একটি সুষ্ঠু বিচারের। শিক্ষার্থীদের চাওয়া এমন একটি রায় যাতে আর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিং এর নামে কোন বর্বরতার ঘটনা না ঘটে।

ওয়াইএইচ / বে অব বেঙ্গল নিউজ।